শিক্ষাঙ্গন
মেয়েদের মধ্যে সাংবাদিকতায় পড়ার আগ্রহ বাড়ছে
মেয়েরা এখন আগ্রহ করেই পড়ার বিষয় হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেচ্ছে নিচ্ছেন। ছবি: সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের নতুন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের একাংশ।
সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যেখানে নিরলস শ্রম ও যথেষ্ট পরিমাণে ঝুঁকি নেয়ার মতো সাহস থাকতে হয়। যে-কোনো বৈরি পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারার মতো তাৎক্ষণিক বিচার-বিবেচনাবোধও একজন সাংবাদিকের মধ্যে থাকা চাই। যথেষ্ট মানসিক ও শারীরিক যোগ্যতা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার মতো আগ্রহ, ঐকান্তিক চেষ্টা ও দৃঢ় মনোবল ছাড়া ভালো সাংবাদিক হওয়া যায় না।
কঠোর পরিশ্রম ও ঝুঁকির কারণে অনেকে মনে করেন, সাংবাদিকতা পুরুষের পেশা- এই পেশা নারীর জন্যে নয়। কিন্তু পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও অনেক নারী ‘সাংবাদিক’ হিসেবে সাফল্যের শিখরে আরোহন করেছেন; তাঁরা প্রমাণ করেছেন, শ্রমসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নারীরা কোনোভাবেই অযোগ্য বা অপারগ নন বরং নারীরা পুরুষের মতো একইভাবে এগিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা ও সক্ষমতা রাখেন।
খুব ধীরগতিতে হলেও পুরুষ ও নারীর ভূমিকা সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত পুরোনো ও ভুল ধারণাগুলোর পরিবর্তন ঘটছে; মেয়েরাও আগের চেয়ে বেশি ‘ভোকাল’ বা সরব হয়ে উঠছেন নিজেদের পছন্দ-অপছন্দের বিষয়ে। দেশে অনেকগুলো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার শক্তি সম্পর্কে বোধ জাগ্রত হচ্ছে। সার্বিকভাবে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে গণমাধ্যমে কাজের আগ্রহ বাড়ছে।
একটা সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্যে বিষয় হিসেবে ‘সাংবাদিকতা’ পছন্দের বিভাগের তালিকায় একেবারে শেষদিকে থাকতো; সেখানেও আবার ভর্তি হতো মূলত ছেলেরা। কিন্তু গত এক দশকে এই চিত্র পাল্টে গেছে অনেকখানিই; ছেলেরা তো বটেই, অনেক মেয়েও এখন খুব আগ্রহের বিষয় হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হচ্ছে। আরো আশার বিষয় হলো, অভিভাবকদের মধ্যে তাদের মেয়েদের সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াতে যে চিরাচরিত অনীহা ছিলো, তাতেও পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।
অনেকগুলো ইতিবাচক প্রভাবকের উপস্থিতির কারণে সাংবাদিকতাকে পড়ার বিষয় হিসেবে বেছে নেয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যমগুলো যদি এখন দায়িত্বশীল ও গ্রহণযোগ্য মাত্রায় পেশাদার পরিবেশ তৈরি করতে পারে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি গণমাধ্যমগুলোর জন্যে দক্ষ কর্মী হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে পারে, তাহলে নতুন প্রজন্মের কাছে সাংবাদিকতা পেশার আকর্ষণ নিশ্চিতভাবেই আরো বাড়বে। আর সাংবাদিকতা পেশায় আসার পথে নারীদের জন্যে বাড়তি যেসব বাধা বা প্রতিকূলতা এখনো রয়ে গেছে, তা দূর করতে সবাই উদ্যোগী হলে নারীরা সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়তে ও সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে আরো আগ্রহী হবে।
এই ইতিবাচক আবহ শতভাগ বাস্তবায়িত হোক, অচিরেই হোক।
সজীব সরকার,
সহকারি অধ্যাপক;জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ;
সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি।
sajeeb_an@yahoo.com
শিক্ষাঙ্গন
মেয়েদের মধ্যে সাংবাদিকতায় পড়ার আগ্রহ বাড়ছে
মেয়েরা এখন আগ্রহ করেই পড়ার বিষয় হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেচ্ছে নিচ্ছেন। ছবি: সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের নতুন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের একাংশ।
সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যেখানে নিরলস শ্রম ও যথেষ্ট পরিমাণে ঝুঁকি নেয়ার মতো সাহস থাকতে হয়। যে-কোনো বৈরি পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারার মতো তাৎক্ষণিক বিচার-বিবেচনাবোধও একজন সাংবাদিকের মধ্যে থাকা চাই। যথেষ্ট মানসিক ও শারীরিক যোগ্যতা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার মতো আগ্রহ, ঐকান্তিক চেষ্টা ও দৃঢ় মনোবল ছাড়া ভালো সাংবাদিক হওয়া যায় না।
কঠোর পরিশ্রম ও ঝুঁকির কারণে অনেকে মনে করেন, সাংবাদিকতা পুরুষের পেশা- এই পেশা নারীর জন্যে নয়। কিন্তু পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও অনেক নারী ‘সাংবাদিক’ হিসেবে সাফল্যের শিখরে আরোহন করেছেন; তাঁরা প্রমাণ করেছেন, শ্রমসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নারীরা কোনোভাবেই অযোগ্য বা অপারগ নন বরং নারীরা পুরুষের মতো একইভাবে এগিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা ও সক্ষমতা রাখেন।
খুব ধীরগতিতে হলেও পুরুষ ও নারীর ভূমিকা সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত পুরোনো ও ভুল ধারণাগুলোর পরিবর্তন ঘটছে; মেয়েরাও আগের চেয়ে বেশি ‘ভোকাল’ বা সরব হয়ে উঠছেন নিজেদের পছন্দ-অপছন্দের বিষয়ে। দেশে অনেকগুলো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার শক্তি সম্পর্কে বোধ জাগ্রত হচ্ছে। সার্বিকভাবে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে গণমাধ্যমে কাজের আগ্রহ বাড়ছে।
একটা সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্যে বিষয় হিসেবে ‘সাংবাদিকতা’ পছন্দের বিভাগের তালিকায় একেবারে শেষদিকে থাকতো; সেখানেও আবার ভর্তি হতো মূলত ছেলেরা। কিন্তু গত এক দশকে এই চিত্র পাল্টে গেছে অনেকখানিই; ছেলেরা তো বটেই, অনেক মেয়েও এখন খুব আগ্রহের বিষয় হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হচ্ছে। আরো আশার বিষয় হলো, অভিভাবকদের মধ্যে তাদের মেয়েদের সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াতে যে চিরাচরিত অনীহা ছিলো, তাতেও পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।
অনেকগুলো ইতিবাচক প্রভাবকের উপস্থিতির কারণে সাংবাদিকতাকে পড়ার বিষয় হিসেবে বেছে নেয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যমগুলো যদি এখন দায়িত্বশীল ও গ্রহণযোগ্য মাত্রায় পেশাদার পরিবেশ তৈরি করতে পারে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি গণমাধ্যমগুলোর জন্যে দক্ষ কর্মী হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে পারে, তাহলে নতুন প্রজন্মের কাছে সাংবাদিকতা পেশার আকর্ষণ নিশ্চিতভাবেই আরো বাড়বে। আর সাংবাদিকতা পেশায় আসার পথে নারীদের জন্যে বাড়তি যেসব বাধা বা প্রতিকূলতা এখনো রয়ে গেছে, তা দূর করতে সবাই উদ্যোগী হলে নারীরা সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়তে ও সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে আরো আগ্রহী হবে।
এই ইতিবাচক আবহ শতভাগ বাস্তবায়িত হোক, অচিরেই হোক।
সজীব সরকার,
সহকারি অধ্যাপক;জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ;
সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি।
sajeeb_an@yahoo.com
আপনার মতামত লিখুন :
আরও পড়ুন
মেয়েরা এখন আগ্রহ করেই পড়ার বিষয় হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেচ্ছে নিচ্ছেন। ছবি: সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের নতুন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের একাংশ।
সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যেখানে নিরলস শ্রম ও যথেষ্ট পরিমাণে ঝুঁকি নেয়ার মতো সাহস থাকতে হয়। যে-কোনো বৈরি পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারার মতো তাৎক্ষণিক বিচার-বিবেচনাবোধও একজন সাংবাদিকের মধ্যে থাকা চাই। যথেষ্ট মানসিক ও শারীরিক যোগ্যতা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার মতো আগ্রহ, ঐকান্তিক চেষ্টা ও দৃঢ় মনোবল ছাড়া ভালো সাংবাদিক হওয়া যায় না।
কঠোর পরিশ্রম ও ঝুঁকির কারণে অনেকে মনে করেন, সাংবাদিকতা পুরুষের পেশা- এই পেশা নারীর জন্যে নয়। কিন্তু পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও অনেক নারী ‘সাংবাদিক’ হিসেবে সাফল্যের শিখরে আরোহন করেছেন; তাঁরা প্রমাণ করেছেন, শ্রমসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নারীরা কোনোভাবেই অযোগ্য বা অপারগ নন বরং নারীরা পুরুষের মতো একইভাবে এগিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা ও সক্ষমতা রাখেন।
খুব ধীরগতিতে হলেও পুরুষ ও নারীর ভূমিকা সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত পুরোনো ও ভুল ধারণাগুলোর পরিবর্তন ঘটছে; মেয়েরাও আগের চেয়ে বেশি ‘ভোকাল’ বা সরব হয়ে উঠছেন নিজেদের পছন্দ-অপছন্দের বিষয়ে। দেশে অনেকগুলো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার শক্তি সম্পর্কে বোধ জাগ্রত হচ্ছে। সার্বিকভাবে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে গণমাধ্যমে কাজের আগ্রহ বাড়ছে।
একটা সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্যে বিষয় হিসেবে ‘সাংবাদিকতা’ পছন্দের বিভাগের তালিকায় একেবারে শেষদিকে থাকতো; সেখানেও আবার ভর্তি হতো মূলত ছেলেরা। কিন্তু গত এক দশকে এই চিত্র পাল্টে গেছে অনেকখানিই; ছেলেরা তো বটেই, অনেক মেয়েও এখন খুব আগ্রহের বিষয় হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হচ্ছে। আরো আশার বিষয় হলো, অভিভাবকদের মধ্যে তাদের মেয়েদের সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াতে যে চিরাচরিত অনীহা ছিলো, তাতেও পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।
অনেকগুলো ইতিবাচক প্রভাবকের উপস্থিতির কারণে সাংবাদিকতাকে পড়ার বিষয় হিসেবে বেছে নেয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যমগুলো যদি এখন দায়িত্বশীল ও গ্রহণযোগ্য মাত্রায় পেশাদার পরিবেশ তৈরি করতে পারে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি গণমাধ্যমগুলোর জন্যে দক্ষ কর্মী হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে পারে, তাহলে নতুন প্রজন্মের কাছে সাংবাদিকতা পেশার আকর্ষণ নিশ্চিতভাবেই আরো বাড়বে। আর সাংবাদিকতা পেশায় আসার পথে নারীদের জন্যে বাড়তি যেসব বাধা বা প্রতিকূলতা এখনো রয়ে গেছে, তা দূর করতে সবাই উদ্যোগী হলে নারীরা সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়তে ও সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে আরো আগ্রহী হবে।
এই ইতিবাচক আবহ শতভাগ বাস্তবায়িত হোক, অচিরেই হোক।
সজীব সরকার,
সহকারি অধ্যাপক;জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ;
সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি।
sajeeb_an@yahoo.com
আপনার মতামত লিখুন :