ভ্রমণ
শ্রীমঙ্গলে প্রশান্তির ছোঁয়া
শ্রীমঙ্গল
শ্রীমঙ্গল দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ। যে দিকে দু’চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। সুনীল আকাশ, দিগন্ত জুড়ে বিশাল হাওর, সাজানো সবুজ চা বাগান আর সুউচ্চ সবুজ পাহাড়ি টিলার নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলীর দেশ শ্রীমঙ্গল। ‘শ্রী’ অর্থ সুন্দর এবং ‘মঙ্গল’ অর্থ শান্তি। সুন্দর ও শান্তির দেশ শ্রীমঙ্গল। শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের একটি উপজেলা হলেও অন্য উপজেলা থেকে যেন একটু অন্যরকম। শ্রীমঙ্গল যেন এক স্বপ্নময় স্বর্গের নাম। এ উপজেলাটি দেশী-বিদেশী পর্যটকদের নিকট যেন স্বর্গোধ্যান। চা বাগান, ঘন জঙ্গল, উঁচু-নিঁচু টিলা, লেবু-পান-আনারস-রাবার বাগান, সুবিস্তৃত হাওর, লেক দিয়ে সাজানো অদ্ভুত সুন্দর এক উপজেলার নাম শ্রীমঙ্গল। সৃষ্টিকর্তা যেন অকৃপনভাবে নিজ হাতে সাজিয়েছেন এ উপজেলাকে। দেশের শীত ও বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল হিসেবেও শ্রীমঙ্গল সুপরিচিত। শহরের কোলাহল ও কর্মব্যস্ত জীবন থেকে মুক্ত হয়ে একটু প্রশান্তি খুঁজছেন? একটুও চিন্তা না করে বেড়িয়ে পড়েন শ্রীমঙ্গলের দিকে।
ভ্রমণ পরিকল্পনা: আপনার সময় অনুযায়ী শ্রীমঙ্গলের প্রধান আকর্ষন গুলো এভাবে দেখার জন্য সাজিয়ে নিতে পারেন।
৫দিন: ফিনলে টি গার্ডেন, লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট, মাধবপুর লেক, মনিপুরি ও খাসিয়া পল্লী, নীলকন্ঠ সাত রঙ চা, মাধবকুন্ড,পরিকুন্ড, লাউয়াছড়ায় রাত্রি যাপন, ক্যাম্প ফায়ার এবং খুব ভোরে লাউয়াছড়ায় ৬-৭ঘন্টা হাটা (যারা বন্যপ্রানী দেখতে চান এবং তাদের ছবি তুলতে চান)।
৪দিন: ফিনলে টি গার্ডেন, লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট, মাধবপুর লেক, মনিপুরি ও খাসিয়া পল্লী, নীলকন্ঠ সাত রঙ চা, মাধবকুন্ড,পরিকুন…
৩দিন: ফিনলে টি গার্ডেন, লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট, মাধবপুর লেক অথবা মনিপুরি ও খাসিয়া পল্লী, নীলকন্ঠ সাত রঙ চা, মাধবকুন্ড,পরিকুন্ড।
২দিন: লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট (ভিতরে চা বাগান আছে), নীলকন্ঠ সাত রঙ চা, মাধবকুন্ড,পরিকুন্ড।
সকাল সন্ধ্যা: লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট (ভিতরে চা বাগান আছে), নীলকন্ঠ সাত রঙ চা।
কি কি নেবেন: শীতকালে ভ্রমন করলে অবশ্যই শীতের কাপড় (শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের সবচেয়ে শীতল অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম)। কিছু ঔষধ যেমন প্যারাসিটামল, মেট্রোনিডাজল, অ্যাভিল, স্যাভলন ইত্যাদি। হাটার জন্য স্নিকারস অথবা আরামদায়ক স্যন্ডেল। বনে হাটাহাটি করতে চাইলে অতিরিক্ত বোঝা বহন না করাই ভাল, আর যদি নিতেই হয় তবে অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো হোটেল বা গাড়ীতে রেখে যান।
কিভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে বাস অথবা আন্তঃনগর ট্রেনে শ্রীমঙ্গল যেতে পারেন। সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অনেক বাস পাবেন (হানিফ, শ্যামলী, ইউনিক ইত্যাদি)। ভাড়া ৪৫০-৫০০/-
কখন যাবেন: সাধারণত শীতকাল হল পর্যটন মৌসুম। যত বেশী শীত শ্রীমঙ্গল ভ্রমন তত আনন্দদায়ক। আর শ্রীমঙ্গলের বৃষ্টি উপভোগ করতে হলে চলে যান বর্শাকালে।
কোথায় থাকবেন: শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য বেশ কিছু দারুন কটেজ, রিসোর্ট গড়ে উঠেছে যা অন্য এলাকায় দেখতে পাওয়া যায়না। নীচে সেগুলোর কিছু বর্ননা দেয়া হলো ।
রিসোর্ট: শান্তি বাড়ি, রাধানগর : আমার মতে শ্রীমঙ্গলে থাকার শ্রেষ্ঠ জায়গা এটি। শহর থেকে ৫ কি:মি: দুরে রাধানগরের গ্রামীন পরিবেশে গড়ে উঠেছে অসাধারন সুন্দর এই ইকো কটেজ। এখানে মোট ঘর আছে দুটি। একটি কাঠের তৈরী দ্বিতল ঘরে রুম আছে ৪ টি। প্রতি রুমে থাকতে পারবেন ৩ জন, ভাড়া ৩০০০ টাকা। আর বাশের কটেজে রুম আছে ২ টি। থাকা যাবে দুজন করে, ভাড়া ২০০০। যোগাযোগ : ০১৭১৬-১৮৯২৮৮ (লিংকন)
নিসর্গ ইকো কটেজ, রাধানগর : বিদেশী অর্থায়নে বাংলাদেশর সরকারের বন রক্ষার বিশেষ প্রকল্প নিসর্গ এর নির্দেশনার আলোকে গড়ে উঠেছে এ ইকো কটেজ। এখানে লিচুবাড়ি এবং রাধানগড় এ দুজায়গায় মোট কটেজ আছে ৭ টি। প্রতিটিতে ২ জন থেকে শুরু করে ৪ জন থাকা যায়। ভাড়া ১৭০০ টাকা থেকে শুরু। যোগাযোগ : ০১৭১-৫০৪১২০৭ (জনাব শামসু)
হারমিটেজ, রাধানগর : রাধানগর গাছপালা ঘেরা একটি খালের ঠিক ওপরেই চাৎকার এ গেষ্ট হাউজটির অবস্থান। এখানে থাকলে পানি প্রবাহের শব্দ শোনা যায় রাতের বেলা। এদের একটি লাইব্রেরীও আছে ঠিক খালের পাড় এ। মুল বভনে রুম আছে ৪ টি ভাড়া ৫০০০, ৪৫০০ এবং ৩৫০০ করে। থাকা যাবে ২-৩ জন প্রতি রুমে। এছাড়া রয়েছে ৩ রুমের কটেজ প্রতিটির ভাড়া ৩০০০ টাকা করে। যোগাযোগ : ০১৯৩-২৮৩১৬৫৩ (ফারুক)
টি রিসোর্ট, ভানুগাছ রোড : শ্রীমঙ্গলে থাকার অন্যতম সেরা জায়গা এটি। বাংলাদেশ টি বোর্ড পরিচালিত এ রিসোর্ট এ অনেকগুলো কটেজ রয়েছে। দুই রুমের একটি কটেজের ভাড়া ৫১৭৫ টাকা। ২ জন থাকার মতো ১ রুমের কটেজের ভাড়া ২৮৭৫ টাকা। যোগাযোগ : ০১৭১-২৯১৬০০১ (অরুন)
গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট, রাধানগর : শ্রীমঙ্গলের একমাত্র ফাইভ ষ্টার রিসোর্ট। বুকিং : ৯৮৭৯ ১১৬১
বাজেট হোটেল: এছাড়া আরেকটু কম খরচে (৫০০-১৫০০ টকা) যদি থাকতে চান তবে থাকতে হবে শহরের মধ্যের হোটেলগুলোতে। এমন কয়েকটি হোটেলের নম্বর দেয়া হলো ।
হোটেল টি টাউন : ০১৭১৮-৩১৬২০২, হোটেল প্লাজা : ০১৭১১-৩৯০০৩৯, হোটেল ইউনাইটেড : ০১৭২৩-০৩৩৬৯৫
কি দেখবেন: চা বাগান: চা বাগান মানেই অপার্থিব মুগ্ধতা ছড়ানো এক অস্তিত্ব। চা বাগান মানেই সবুজের অবারিত সৌন্দর্য। চা বাগান মানেই আনন্দ, অ্যাডভেঞ্চার, রোমাঞ্চ। শ্রীমঙ্গল উপজেলায় জেমস ফিনলে, ইস্পাহানী টি কোম্পানী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন মিলিয়ে ছোট-বড় ৩৮টি চা বাগান রয়েছে। শহর থেকে যে কোন সড়ক ধরে হাটাপথ দুরত্বে পৌছা মাত্র চোখে পড়বে মাইলের পর মাইল চা বাগান। চা বাগানের বেস্টনির মাঝে ছোট শহর শ্রীমঙ্গল। চা বাগানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর মনে হবে কোন চিত্রশিল্পী মনের মাধুরী মিশিয়ে সবুজ-শ্যামল মাঠ তৈরী করে রেখেছে। চা বাগানের সবুজ বুক চিড়ে আঁকা-বাঁকা পথ ধরে কোন এক বিকেলে বৈকালিক ভ্রমণ করলে মনটা আনন্দের অতিসয্যে ভরে উঠবেই-উঠবে। ভাগ্য ভাল হলে মহিলা চা শ্রমিকদের চা পাতা উত্তোলনের মনোরম দৃশ্যও চোখে পড়বে। শহরের পাশেই ভাড়াউড়া, বুড়বুড়িয়া ইত্যাদি চা বাগানের অবস্থান। একটু দুরেই কাকিয়াছড়া, ফুলছড়া, কালীঘাট, সিন্দুরখান, রাজঘাট চা বাগান অবস্থিত। সবুজের মেলা চা বাগানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে অতি অবশ্যই বাগান কতৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। ইচ্ছে করলে কতৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এসব চা বাগানের চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় প্রবেশ করে কাচাঁ চা পাতা থেকে চা তৈরীর প্রক্রিয়াও দেখা যেতে পারে।
ভ্রমণ
শ্রীমঙ্গলে প্রশান্তির ছোঁয়া
শ্রীমঙ্গল
শ্রীমঙ্গল দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ। যে দিকে দু’চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। সুনীল আকাশ, দিগন্ত জুড়ে বিশাল হাওর, সাজানো সবুজ চা বাগান আর সুউচ্চ সবুজ পাহাড়ি টিলার নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলীর দেশ শ্রীমঙ্গল। ‘শ্রী’ অর্থ সুন্দর এবং ‘মঙ্গল’ অর্থ শান্তি। সুন্দর ও শান্তির দেশ শ্রীমঙ্গল। শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের একটি উপজেলা হলেও অন্য উপজেলা থেকে যেন একটু অন্যরকম। শ্রীমঙ্গল যেন এক স্বপ্নময় স্বর্গের নাম। এ উপজেলাটি দেশী-বিদেশী পর্যটকদের নিকট যেন স্বর্গোধ্যান। চা বাগান, ঘন জঙ্গল, উঁচু-নিঁচু টিলা, লেবু-পান-আনারস-রাবার বাগান, সুবিস্তৃত হাওর, লেক দিয়ে সাজানো অদ্ভুত সুন্দর এক উপজেলার নাম শ্রীমঙ্গল। সৃষ্টিকর্তা যেন অকৃপনভাবে নিজ হাতে সাজিয়েছেন এ উপজেলাকে। দেশের শীত ও বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল হিসেবেও শ্রীমঙ্গল সুপরিচিত। শহরের কোলাহল ও কর্মব্যস্ত জীবন থেকে মুক্ত হয়ে একটু প্রশান্তি খুঁজছেন? একটুও চিন্তা না করে বেড়িয়ে পড়েন শ্রীমঙ্গলের দিকে।
ভ্রমণ পরিকল্পনা: আপনার সময় অনুযায়ী শ্রীমঙ্গলের প্রধান আকর্ষন গুলো এভাবে দেখার জন্য সাজিয়ে নিতে পারেন।
৫দিন: ফিনলে টি গার্ডেন, লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট, মাধবপুর লেক, মনিপুরি ও খাসিয়া পল্লী, নীলকন্ঠ সাত রঙ চা, মাধবকুন্ড,পরিকুন্ড, লাউয়াছড়ায় রাত্রি যাপন, ক্যাম্প ফায়ার এবং খুব ভোরে লাউয়াছড়ায় ৬-৭ঘন্টা হাটা (যারা বন্যপ্রানী দেখতে চান এবং তাদের ছবি তুলতে চান)।
৪দিন: ফিনলে টি গার্ডেন, লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট, মাধবপুর লেক, মনিপুরি ও খাসিয়া পল্লী, নীলকন্ঠ সাত রঙ চা, মাধবকুন্ড,পরিকুন…
৩দিন: ফিনলে টি গার্ডেন, লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট, মাধবপুর লেক অথবা মনিপুরি ও খাসিয়া পল্লী, নীলকন্ঠ সাত রঙ চা, মাধবকুন্ড,পরিকুন্ড।
২দিন: লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট (ভিতরে চা বাগান আছে), নীলকন্ঠ সাত রঙ চা, মাধবকুন্ড,পরিকুন্ড।
সকাল সন্ধ্যা: লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট (ভিতরে চা বাগান আছে), নীলকন্ঠ সাত রঙ চা।
কি কি নেবেন: শীতকালে ভ্রমন করলে অবশ্যই শীতের কাপড় (শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের সবচেয়ে শীতল অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম)। কিছু ঔষধ যেমন প্যারাসিটামল, মেট্রোনিডাজল, অ্যাভিল, স্যাভলন ইত্যাদি। হাটার জন্য স্নিকারস অথবা আরামদায়ক স্যন্ডেল। বনে হাটাহাটি করতে চাইলে অতিরিক্ত বোঝা বহন না করাই ভাল, আর যদি নিতেই হয় তবে অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো হোটেল বা গাড়ীতে রেখে যান।
কিভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে বাস অথবা আন্তঃনগর ট্রেনে শ্রীমঙ্গল যেতে পারেন। সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অনেক বাস পাবেন (হানিফ, শ্যামলী, ইউনিক ইত্যাদি)। ভাড়া ৪৫০-৫০০/-
কখন যাবেন: সাধারণত শীতকাল হল পর্যটন মৌসুম। যত বেশী শীত শ্রীমঙ্গল ভ্রমন তত আনন্দদায়ক। আর শ্রীমঙ্গলের বৃষ্টি উপভোগ করতে হলে চলে যান বর্শাকালে।
কোথায় থাকবেন: শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য বেশ কিছু দারুন কটেজ, রিসোর্ট গড়ে উঠেছে যা অন্য এলাকায় দেখতে পাওয়া যায়না। নীচে সেগুলোর কিছু বর্ননা দেয়া হলো ।
রিসোর্ট: শান্তি বাড়ি, রাধানগর : আমার মতে শ্রীমঙ্গলে থাকার শ্রেষ্ঠ জায়গা এটি। শহর থেকে ৫ কি:মি: দুরে রাধানগরের গ্রামীন পরিবেশে গড়ে উঠেছে অসাধারন সুন্দর এই ইকো কটেজ। এখানে মোট ঘর আছে দুটি। একটি কাঠের তৈরী দ্বিতল ঘরে রুম আছে ৪ টি। প্রতি রুমে থাকতে পারবেন ৩ জন, ভাড়া ৩০০০ টাকা। আর বাশের কটেজে রুম আছে ২ টি। থাকা যাবে দুজন করে, ভাড়া ২০০০। যোগাযোগ : ০১৭১৬-১৮৯২৮৮ (লিংকন)
নিসর্গ ইকো কটেজ, রাধানগর : বিদেশী অর্থায়নে বাংলাদেশর সরকারের বন রক্ষার বিশেষ প্রকল্প নিসর্গ এর নির্দেশনার আলোকে গড়ে উঠেছে এ ইকো কটেজ। এখানে লিচুবাড়ি এবং রাধানগড় এ দুজায়গায় মোট কটেজ আছে ৭ টি। প্রতিটিতে ২ জন থেকে শুরু করে ৪ জন থাকা যায়। ভাড়া ১৭০০ টাকা থেকে শুরু। যোগাযোগ : ০১৭১-৫০৪১২০৭ (জনাব শামসু)
হারমিটেজ, রাধানগর : রাধানগর গাছপালা ঘেরা একটি খালের ঠিক ওপরেই চাৎকার এ গেষ্ট হাউজটির অবস্থান। এখানে থাকলে পানি প্রবাহের শব্দ শোনা যায় রাতের বেলা। এদের একটি লাইব্রেরীও আছে ঠিক খালের পাড় এ। মুল বভনে রুম আছে ৪ টি ভাড়া ৫০০০, ৪৫০০ এবং ৩৫০০ করে। থাকা যাবে ২-৩ জন প্রতি রুমে। এছাড়া রয়েছে ৩ রুমের কটেজ প্রতিটির ভাড়া ৩০০০ টাকা করে। যোগাযোগ : ০১৯৩-২৮৩১৬৫৩ (ফারুক)
টি রিসোর্ট, ভানুগাছ রোড : শ্রীমঙ্গলে থাকার অন্যতম সেরা জায়গা এটি। বাংলাদেশ টি বোর্ড পরিচালিত এ রিসোর্ট এ অনেকগুলো কটেজ রয়েছে। দুই রুমের একটি কটেজের ভাড়া ৫১৭৫ টাকা। ২ জন থাকার মতো ১ রুমের কটেজের ভাড়া ২৮৭৫ টাকা। যোগাযোগ : ০১৭১-২৯১৬০০১ (অরুন)
গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট, রাধানগর : শ্রীমঙ্গলের একমাত্র ফাইভ ষ্টার রিসোর্ট। বুকিং : ৯৮৭৯ ১১৬১
বাজেট হোটেল: এছাড়া আরেকটু কম খরচে (৫০০-১৫০০ টকা) যদি থাকতে চান তবে থাকতে হবে শহরের মধ্যের হোটেলগুলোতে। এমন কয়েকটি হোটেলের নম্বর দেয়া হলো ।
হোটেল টি টাউন : ০১৭১৮-৩১৬২০২, হোটেল প্লাজা : ০১৭১১-৩৯০০৩৯, হোটেল ইউনাইটেড : ০১৭২৩-০৩৩৬৯৫
কি দেখবেন: চা বাগান: চা বাগান মানেই অপার্থিব মুগ্ধতা ছড়ানো এক অস্তিত্ব। চা বাগান মানেই সবুজের অবারিত সৌন্দর্য। চা বাগান মানেই আনন্দ, অ্যাডভেঞ্চার, রোমাঞ্চ। শ্রীমঙ্গল উপজেলায় জেমস ফিনলে, ইস্পাহানী টি কোম্পানী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন মিলিয়ে ছোট-বড় ৩৮টি চা বাগান রয়েছে। শহর থেকে যে কোন সড়ক ধরে হাটাপথ দুরত্বে পৌছা মাত্র চোখে পড়বে মাইলের পর মাইল চা বাগান। চা বাগানের বেস্টনির মাঝে ছোট শহর শ্রীমঙ্গল। চা বাগানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর মনে হবে কোন চিত্রশিল্পী মনের মাধুরী মিশিয়ে সবুজ-শ্যামল মাঠ তৈরী করে রেখেছে। চা বাগানের সবুজ বুক চিড়ে আঁকা-বাঁকা পথ ধরে কোন এক বিকেলে বৈকালিক ভ্রমণ করলে মনটা আনন্দের অতিসয্যে ভরে উঠবেই-উঠবে। ভাগ্য ভাল হলে মহিলা চা শ্রমিকদের চা পাতা উত্তোলনের মনোরম দৃশ্যও চোখে পড়বে। শহরের পাশেই ভাড়াউড়া, বুড়বুড়িয়া ইত্যাদি চা বাগানের অবস্থান। একটু দুরেই কাকিয়াছড়া, ফুলছড়া, কালীঘাট, সিন্দুরখান, রাজঘাট চা বাগান অবস্থিত। সবুজের মেলা চা বাগানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে অতি অবশ্যই বাগান কতৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। ইচ্ছে করলে কতৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এসব চা বাগানের চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় প্রবেশ করে কাচাঁ চা পাতা থেকে চা তৈরীর প্রক্রিয়াও দেখা যেতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :
আরও পড়ুন
শ্রীমঙ্গল
শ্রীমঙ্গল দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ। যে দিকে দু’চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। সুনীল আকাশ, দিগন্ত জুড়ে বিশাল হাওর, সাজানো সবুজ চা বাগান আর সুউচ্চ সবুজ পাহাড়ি টিলার নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলীর দেশ শ্রীমঙ্গল। ‘শ্রী’ অর্থ সুন্দর এবং ‘মঙ্গল’ অর্থ শান্তি। সুন্দর ও শান্তির দেশ শ্রীমঙ্গল। শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের একটি উপজেলা হলেও অন্য উপজেলা থেকে যেন একটু অন্যরকম। শ্রীমঙ্গল যেন এক স্বপ্নময় স্বর্গের নাম। এ উপজেলাটি দেশী-বিদেশী পর্যটকদের নিকট যেন স্বর্গোধ্যান। চা বাগান, ঘন জঙ্গল, উঁচু-নিঁচু টিলা, লেবু-পান-আনারস-রাবার বাগান, সুবিস্তৃত হাওর, লেক দিয়ে সাজানো অদ্ভুত সুন্দর এক উপজেলার নাম শ্রীমঙ্গল। সৃষ্টিকর্তা যেন অকৃপনভাবে নিজ হাতে সাজিয়েছেন এ উপজেলাকে। দেশের শীত ও বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল হিসেবেও শ্রীমঙ্গল সুপরিচিত। শহরের কোলাহল ও কর্মব্যস্ত জীবন থেকে মুক্ত হয়ে একটু প্রশান্তি খুঁজছেন? একটুও চিন্তা না করে বেড়িয়ে পড়েন শ্রীমঙ্গলের দিকে।
ভ্রমণ পরিকল্পনা: আপনার সময় অনুযায়ী শ্রীমঙ্গলের প্রধান আকর্ষন গুলো এভাবে দেখার জন্য সাজিয়ে নিতে পারেন।
৫দিন: ফিনলে টি গার্ডেন, লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট, মাধবপুর লেক, মনিপুরি ও খাসিয়া পল্লী, নীলকন্ঠ সাত রঙ চা, মাধবকুন্ড,পরিকুন্ড, লাউয়াছড়ায় রাত্রি যাপন, ক্যাম্প ফায়ার এবং খুব ভোরে লাউয়াছড়ায় ৬-৭ঘন্টা হাটা (যারা বন্যপ্রানী দেখতে চান এবং তাদের ছবি তুলতে চান)।
৪দিন: ফিনলে টি গার্ডেন, লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট, মাধবপুর লেক, মনিপুরি ও খাসিয়া পল্লী, নীলকন্ঠ সাত রঙ চা, মাধবকুন্ড,পরিকুন…
৩দিন: ফিনলে টি গার্ডেন, লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট, মাধবপুর লেক অথবা মনিপুরি ও খাসিয়া পল্লী, নীলকন্ঠ সাত রঙ চা, মাধবকুন্ড,পরিকুন্ড।
২দিন: লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট (ভিতরে চা বাগান আছে), নীলকন্ঠ সাত রঙ চা, মাধবকুন্ড,পরিকুন্ড।
সকাল সন্ধ্যা: লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট (ভিতরে চা বাগান আছে), নীলকন্ঠ সাত রঙ চা।
কি কি নেবেন: শীতকালে ভ্রমন করলে অবশ্যই শীতের কাপড় (শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের সবচেয়ে শীতল অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম)। কিছু ঔষধ যেমন প্যারাসিটামল, মেট্রোনিডাজল, অ্যাভিল, স্যাভলন ইত্যাদি। হাটার জন্য স্নিকারস অথবা আরামদায়ক স্যন্ডেল। বনে হাটাহাটি করতে চাইলে অতিরিক্ত বোঝা বহন না করাই ভাল, আর যদি নিতেই হয় তবে অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো হোটেল বা গাড়ীতে রেখে যান।
কিভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে বাস অথবা আন্তঃনগর ট্রেনে শ্রীমঙ্গল যেতে পারেন। সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অনেক বাস পাবেন (হানিফ, শ্যামলী, ইউনিক ইত্যাদি)। ভাড়া ৪৫০-৫০০/-
কখন যাবেন: সাধারণত শীতকাল হল পর্যটন মৌসুম। যত বেশী শীত শ্রীমঙ্গল ভ্রমন তত আনন্দদায়ক। আর শ্রীমঙ্গলের বৃষ্টি উপভোগ করতে হলে চলে যান বর্শাকালে।
কোথায় থাকবেন: শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য বেশ কিছু দারুন কটেজ, রিসোর্ট গড়ে উঠেছে যা অন্য এলাকায় দেখতে পাওয়া যায়না। নীচে সেগুলোর কিছু বর্ননা দেয়া হলো ।
রিসোর্ট: শান্তি বাড়ি, রাধানগর : আমার মতে শ্রীমঙ্গলে থাকার শ্রেষ্ঠ জায়গা এটি। শহর থেকে ৫ কি:মি: দুরে রাধানগরের গ্রামীন পরিবেশে গড়ে উঠেছে অসাধারন সুন্দর এই ইকো কটেজ। এখানে মোট ঘর আছে দুটি। একটি কাঠের তৈরী দ্বিতল ঘরে রুম আছে ৪ টি। প্রতি রুমে থাকতে পারবেন ৩ জন, ভাড়া ৩০০০ টাকা। আর বাশের কটেজে রুম আছে ২ টি। থাকা যাবে দুজন করে, ভাড়া ২০০০। যোগাযোগ : ০১৭১৬-১৮৯২৮৮ (লিংকন)
নিসর্গ ইকো কটেজ, রাধানগর : বিদেশী অর্থায়নে বাংলাদেশর সরকারের বন রক্ষার বিশেষ প্রকল্প নিসর্গ এর নির্দেশনার আলোকে গড়ে উঠেছে এ ইকো কটেজ। এখানে লিচুবাড়ি এবং রাধানগড় এ দুজায়গায় মোট কটেজ আছে ৭ টি। প্রতিটিতে ২ জন থেকে শুরু করে ৪ জন থাকা যায়। ভাড়া ১৭০০ টাকা থেকে শুরু। যোগাযোগ : ০১৭১-৫০৪১২০৭ (জনাব শামসু)
হারমিটেজ, রাধানগর : রাধানগর গাছপালা ঘেরা একটি খালের ঠিক ওপরেই চাৎকার এ গেষ্ট হাউজটির অবস্থান। এখানে থাকলে পানি প্রবাহের শব্দ শোনা যায় রাতের বেলা। এদের একটি লাইব্রেরীও আছে ঠিক খালের পাড় এ। মুল বভনে রুম আছে ৪ টি ভাড়া ৫০০০, ৪৫০০ এবং ৩৫০০ করে। থাকা যাবে ২-৩ জন প্রতি রুমে। এছাড়া রয়েছে ৩ রুমের কটেজ প্রতিটির ভাড়া ৩০০০ টাকা করে। যোগাযোগ : ০১৯৩-২৮৩১৬৫৩ (ফারুক)
টি রিসোর্ট, ভানুগাছ রোড : শ্রীমঙ্গলে থাকার অন্যতম সেরা জায়গা এটি। বাংলাদেশ টি বোর্ড পরিচালিত এ রিসোর্ট এ অনেকগুলো কটেজ রয়েছে। দুই রুমের একটি কটেজের ভাড়া ৫১৭৫ টাকা। ২ জন থাকার মতো ১ রুমের কটেজের ভাড়া ২৮৭৫ টাকা। যোগাযোগ : ০১৭১-২৯১৬০০১ (অরুন)
গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট, রাধানগর : শ্রীমঙ্গলের একমাত্র ফাইভ ষ্টার রিসোর্ট। বুকিং : ৯৮৭৯ ১১৬১
বাজেট হোটেল: এছাড়া আরেকটু কম খরচে (৫০০-১৫০০ টকা) যদি থাকতে চান তবে থাকতে হবে শহরের মধ্যের হোটেলগুলোতে। এমন কয়েকটি হোটেলের নম্বর দেয়া হলো ।
হোটেল টি টাউন : ০১৭১৮-৩১৬২০২, হোটেল প্লাজা : ০১৭১১-৩৯০০৩৯, হোটেল ইউনাইটেড : ০১৭২৩-০৩৩৬৯৫
কি দেখবেন: চা বাগান: চা বাগান মানেই অপার্থিব মুগ্ধতা ছড়ানো এক অস্তিত্ব। চা বাগান মানেই সবুজের অবারিত সৌন্দর্য। চা বাগান মানেই আনন্দ, অ্যাডভেঞ্চার, রোমাঞ্চ। শ্রীমঙ্গল উপজেলায় জেমস ফিনলে, ইস্পাহানী টি কোম্পানী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন মিলিয়ে ছোট-বড় ৩৮টি চা বাগান রয়েছে। শহর থেকে যে কোন সড়ক ধরে হাটাপথ দুরত্বে পৌছা মাত্র চোখে পড়বে মাইলের পর মাইল চা বাগান। চা বাগানের বেস্টনির মাঝে ছোট শহর শ্রীমঙ্গল। চা বাগানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর মনে হবে কোন চিত্রশিল্পী মনের মাধুরী মিশিয়ে সবুজ-শ্যামল মাঠ তৈরী করে রেখেছে। চা বাগানের সবুজ বুক চিড়ে আঁকা-বাঁকা পথ ধরে কোন এক বিকেলে বৈকালিক ভ্রমণ করলে মনটা আনন্দের অতিসয্যে ভরে উঠবেই-উঠবে। ভাগ্য ভাল হলে মহিলা চা শ্রমিকদের চা পাতা উত্তোলনের মনোরম দৃশ্যও চোখে পড়বে। শহরের পাশেই ভাড়াউড়া, বুড়বুড়িয়া ইত্যাদি চা বাগানের অবস্থান। একটু দুরেই কাকিয়াছড়া, ফুলছড়া, কালীঘাট, সিন্দুরখান, রাজঘাট চা বাগান অবস্থিত। সবুজের মেলা চা বাগানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে অতি অবশ্যই বাগান কতৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। ইচ্ছে করলে কতৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এসব চা বাগানের চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় প্রবেশ করে কাচাঁ চা পাতা থেকে চা তৈরীর প্রক্রিয়াও দেখা যেতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :