মুক্তচিন্তা
শুধু ফোন ‘স্মার্ট’ হলেই চলবে?
প্রযুক্তির ভালো-মন্দ
বিশ্বায়নের যুগের শুরুর পর ইন্টারনেট সহজলভ্য হতে শুরু করলে প্রযুক্তিবিশারদরা বলতেন, গোটা বিশ্ব এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। সত্যিই তাই; ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত একটি স্মার্টফোন হাতের মুঠোয় থাকা মানে এখন প্রায় আক্ষরিক অর্থেই গোটা বিশ্ব হাতের মুঠোয় থাকা। স্মার্টফোনের কারণে মানুষের জীবনে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে; স্মার্টফোন নিঃসন্দেহে জীবনকে সহজতর করেছে এবং মানুষকে তথ্য ও বিনোদনের সহজ সমাধান দিয়েছে। ইতিহাস-বিজ্ঞান-দর্শন-সাহিত্য থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বের তাবৎ তত্ত্ব ও তথ্য চাওয়া মাত্রই ভেসে ওঠে ফোনের পর্দায়; এমন অনায়াসসাধ্য জগতে আর কী আছে!
স্মার্টফোন জীবনকে যেমন সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তেমনি এটি ব্যক্তির নিরাপত্তার জন্যে হুমকিও বয়ে এনেছে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা প্রায়শই বিঘ্নিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহার করে পরীক্ষায় নকলের প্রবণতা বাড়ছে; অনেকে ক্লাস চলাকালেও প্রকাশ্যে বা আড়ালে স্মার্টফোনের ব্যস্ত থাকছে। স্মার্টফোনের ক্যামেরার অনৈতিক ও বিবেচনাহীন বা ভুল ব্যবহারের কারণে মানুষের প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে; আমাদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিম-লে বিশেষ করে মেয়েদের জন্যে এই বিষয়টি বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
স্মার্টফোন এমন এক সমুদ্র, যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডুবে থাকা যায়, ক্লান্তি-শ্রান্তিহীনভাবে। অনেকেই তা করছেও। একসাথে আড্ডায় সবাই সবার পাশে বসে থাকলেও কেউ কারো সাথে নেই। ফোনের কাজ যোগাযোগকে সহজতর করা, কিন্তু স্মার্টফোন যেন সবাইকে সবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে; দার্শনিক কার্ল মার্কসের ‘এলিয়েনেশন’-এর তত্ত্ব এখানে স্পষ্টত প্রয়োগযোগ্য।
প্রযুক্তির ভালো-মন্দ নিয়ে চিরকালই বিতর্ক রয়েছে; তাই বলে প্রযুক্তির উৎকর্ষ থেমে থাকেনি। ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে প্রযুক্তি যেমন আশির্বাদ হয়ে উঠতে পারে, প্রযুক্তির ভুল ব্যবহার তেমনি অভিশাপ হিসেবে দেখা দেয়। জীবনকে সহজতর করতে মানুষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে। সেই প্রযুক্তি যদি জীবনকে স্থবিরতার দিকে ঠেলে দেয়, তাহলে তা মেনে নেয়া যায় না। প্রযুক্তি হবে জীবন-নির্ভর; মানুষ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে প্রযুক্তি-নির্ভর হলে তা খুব ভালো কথা নয়।
স্মার্টফোনের ‘স্মার্ট’ ব্যবহার শেখাটা খুব জরুরি।
সজীব সরকার:
সহকারি অধ্যাপক; জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ; স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। লেখক ও গবেষক।
sajeeb_an@yahoo.com
মুক্তচিন্তা
শুধু ফোন ‘স্মার্ট’ হলেই চলবে?
প্রযুক্তির ভালো-মন্দ
বিশ্বায়নের যুগের শুরুর পর ইন্টারনেট সহজলভ্য হতে শুরু করলে প্রযুক্তিবিশারদরা বলতেন, গোটা বিশ্ব এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। সত্যিই তাই; ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত একটি স্মার্টফোন হাতের মুঠোয় থাকা মানে এখন প্রায় আক্ষরিক অর্থেই গোটা বিশ্ব হাতের মুঠোয় থাকা। স্মার্টফোনের কারণে মানুষের জীবনে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে; স্মার্টফোন নিঃসন্দেহে জীবনকে সহজতর করেছে এবং মানুষকে তথ্য ও বিনোদনের সহজ সমাধান দিয়েছে। ইতিহাস-বিজ্ঞান-দর্শন-সাহিত্য থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বের তাবৎ তত্ত্ব ও তথ্য চাওয়া মাত্রই ভেসে ওঠে ফোনের পর্দায়; এমন অনায়াসসাধ্য জগতে আর কী আছে!
স্মার্টফোন জীবনকে যেমন সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তেমনি এটি ব্যক্তির নিরাপত্তার জন্যে হুমকিও বয়ে এনেছে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা প্রায়শই বিঘ্নিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহার করে পরীক্ষায় নকলের প্রবণতা বাড়ছে; অনেকে ক্লাস চলাকালেও প্রকাশ্যে বা আড়ালে স্মার্টফোনের ব্যস্ত থাকছে। স্মার্টফোনের ক্যামেরার অনৈতিক ও বিবেচনাহীন বা ভুল ব্যবহারের কারণে মানুষের প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে; আমাদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিম-লে বিশেষ করে মেয়েদের জন্যে এই বিষয়টি বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
স্মার্টফোন এমন এক সমুদ্র, যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডুবে থাকা যায়, ক্লান্তি-শ্রান্তিহীনভাবে। অনেকেই তা করছেও। একসাথে আড্ডায় সবাই সবার পাশে বসে থাকলেও কেউ কারো সাথে নেই। ফোনের কাজ যোগাযোগকে সহজতর করা, কিন্তু স্মার্টফোন যেন সবাইকে সবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে; দার্শনিক কার্ল মার্কসের ‘এলিয়েনেশন’-এর তত্ত্ব এখানে স্পষ্টত প্রয়োগযোগ্য।
প্রযুক্তির ভালো-মন্দ নিয়ে চিরকালই বিতর্ক রয়েছে; তাই বলে প্রযুক্তির উৎকর্ষ থেমে থাকেনি। ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে প্রযুক্তি যেমন আশির্বাদ হয়ে উঠতে পারে, প্রযুক্তির ভুল ব্যবহার তেমনি অভিশাপ হিসেবে দেখা দেয়। জীবনকে সহজতর করতে মানুষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে। সেই প্রযুক্তি যদি জীবনকে স্থবিরতার দিকে ঠেলে দেয়, তাহলে তা মেনে নেয়া যায় না। প্রযুক্তি হবে জীবন-নির্ভর; মানুষ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে প্রযুক্তি-নির্ভর হলে তা খুব ভালো কথা নয়।
স্মার্টফোনের ‘স্মার্ট’ ব্যবহার শেখাটা খুব জরুরি।
সজীব সরকার:
সহকারি অধ্যাপক; জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ; স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। লেখক ও গবেষক।
sajeeb_an@yahoo.com
আপনার মতামত লিখুন :
আরও পড়ুন
প্রযুক্তির ভালো-মন্দ
বিশ্বায়নের যুগের শুরুর পর ইন্টারনেট সহজলভ্য হতে শুরু করলে প্রযুক্তিবিশারদরা বলতেন, গোটা বিশ্ব এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। সত্যিই তাই; ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত একটি স্মার্টফোন হাতের মুঠোয় থাকা মানে এখন প্রায় আক্ষরিক অর্থেই গোটা বিশ্ব হাতের মুঠোয় থাকা। স্মার্টফোনের কারণে মানুষের জীবনে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে; স্মার্টফোন নিঃসন্দেহে জীবনকে সহজতর করেছে এবং মানুষকে তথ্য ও বিনোদনের সহজ সমাধান দিয়েছে। ইতিহাস-বিজ্ঞান-দর্শন-সাহিত্য থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বের তাবৎ তত্ত্ব ও তথ্য চাওয়া মাত্রই ভেসে ওঠে ফোনের পর্দায়; এমন অনায়াসসাধ্য জগতে আর কী আছে!
স্মার্টফোন জীবনকে যেমন সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তেমনি এটি ব্যক্তির নিরাপত্তার জন্যে হুমকিও বয়ে এনেছে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা প্রায়শই বিঘ্নিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহার করে পরীক্ষায় নকলের প্রবণতা বাড়ছে; অনেকে ক্লাস চলাকালেও প্রকাশ্যে বা আড়ালে স্মার্টফোনের ব্যস্ত থাকছে। স্মার্টফোনের ক্যামেরার অনৈতিক ও বিবেচনাহীন বা ভুল ব্যবহারের কারণে মানুষের প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে; আমাদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিম-লে বিশেষ করে মেয়েদের জন্যে এই বিষয়টি বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
স্মার্টফোন এমন এক সমুদ্র, যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডুবে থাকা যায়, ক্লান্তি-শ্রান্তিহীনভাবে। অনেকেই তা করছেও। একসাথে আড্ডায় সবাই সবার পাশে বসে থাকলেও কেউ কারো সাথে নেই। ফোনের কাজ যোগাযোগকে সহজতর করা, কিন্তু স্মার্টফোন যেন সবাইকে সবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে; দার্শনিক কার্ল মার্কসের ‘এলিয়েনেশন’-এর তত্ত্ব এখানে স্পষ্টত প্রয়োগযোগ্য।
প্রযুক্তির ভালো-মন্দ নিয়ে চিরকালই বিতর্ক রয়েছে; তাই বলে প্রযুক্তির উৎকর্ষ থেমে থাকেনি। ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে প্রযুক্তি যেমন আশির্বাদ হয়ে উঠতে পারে, প্রযুক্তির ভুল ব্যবহার তেমনি অভিশাপ হিসেবে দেখা দেয়। জীবনকে সহজতর করতে মানুষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে। সেই প্রযুক্তি যদি জীবনকে স্থবিরতার দিকে ঠেলে দেয়, তাহলে তা মেনে নেয়া যায় না। প্রযুক্তি হবে জীবন-নির্ভর; মানুষ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে প্রযুক্তি-নির্ভর হলে তা খুব ভালো কথা নয়।
স্মার্টফোনের ‘স্মার্ট’ ব্যবহার শেখাটা খুব জরুরি।
সজীব সরকার:
সহকারি অধ্যাপক; জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ; স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। লেখক ও গবেষক।
sajeeb_an@yahoo.com
আপনার মতামত লিখুন :