আন্তর্জাতিক

কোভিড-১৯

করোনা নিয়ন্ত্রণে লাগতে পারে ৫ বছর: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা


নিউজরুম ডেস্ক
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০ ইং ০১:০৯
NewsRoom


বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) শীর্ষ কর্মকর্তা প্রধান বিজ্ঞানী সৌমিয়া সোমিনাথান।

সৌমিয়া সোমিনাথান এক বিবৃতিতে বলেন, আমি চার থেকে পাঁচ বছরের একটি সময়সীমার কথা বলতে চাই। এই সময়ের মধ্যে আমরা এটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ভ্যাকসিন। তবে এর কার্যকারিতা এবং সুরক্ষা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। একই সঙ্গে ভ্যাকসিন উৎপাদন ও সুষম বন্টন নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

এদিকে, করোনার তাণ্ডবে বিশ্বজুড়ে এই যখন অবস্থা তখন হতাশার কথা বলেছেন সংস্থাটির হেলথ ইমারজেন্সি প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক ডা. মাইক রায়ান বলেন, কবে নাগাদ এই রোগ থেকে মুক্তি মিলবে তা কেউ অনুমান করতে পারছে না।

মাইক রায়ান বলেছেন, আমার মনে হয়, আমাদের এক্ষেত্রে বাস্তবতা উপলব্ধি করাটা গুরুত্বপূর্ণ। এই মহামারির শেষ কোথায়, এটা কেউ বলতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। কোভিড-১৯ হয়ত বিশ্ব থেকে কখনও নির্মূল হবে না।

এক ব্রিফিংয়ে রায়ান বলেন, এক্ষেত্রে কোনো দিনক্ষণ নেই, কেউ আশা দিতে পারবে না। এটা আমাদের জন্য দীর্ঘ সমস্যা হিসেবে রয়ে যাবে, হয়ত কখনও নেই হয়ে যাবে না।

পাঁচ মাস আগে চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ছোঁয়াচে এ ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে প্রায় গোটা পৃথিবী লকডাউনে যাওয়ায় বিশ্বের অর্থনীতি এখন বিপর্যস্ত। দিশেহারা মানুষ পথ খুঁজছে এ থেকে পরিত্রাণের।

এই পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিন আবিষ্কারে ঘুম হারাম করে গবেষণা চালাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। নানা দেশে প্রায় ১০০টি টিকা ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। যদিও এসবের বেশিরভাগই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটির (৮টি) ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অর্থাৎ মানবদেহে প্রয়োগ করা হয়েছে ইতোমধ্যে। তবে তাতেও ততটা আশাবাদী নন ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞ রায়ান।

তিনি বলেন, হামেরও তো টিকা আবিষ্কার হয়েছে, দেওয়াও হচ্ছে, তাতে তো হাম নির্মূল হয়নি। এইডসেরও এখনও কার্যকর টিকা আবিষ্কার হয়নি বলে তা রয়েই গেছে বিশ্বে। তেমন হলে নতুন করোনাভাইরাসকে সঙ্গী করেই বাঁচার পথ খুঁজতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বিভিন্ন দেশে লকডাউন শিথিলের বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, লকডাউন খুলে দিলে কি হয় তা দেখার জন্য আমাদের এটা করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, মানুষের শরীরে নতুন একটি ভাইরাস প্রবেশ করেছে। তাই এ থেকে আমরা কখন বেরিয়ে আসতে পারব তা এখনই অনুমান করা কঠিন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলছে, এখনই নভেল করোনাভাইরাস মহামারির সমাপ্তি হচ্ছে না। বছরের পর বছর এতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাবে মানুষ। মানবজাতির জন্য দীর্ঘস্থায়ী সংকট হিসেবে কমিউনিটিতে রয়ে যাবে এই ভাইরাস। তাই বিশ্ব নেতাদের এর ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের একটি বিন্দুতে পৌঁছাতে হবে, যাতে এটা আর মহামারি না থাকে।

বৈশ্বিক মহামারি এ ভাইরাসে এখন স্থবির পুরো পৃথিবী। দুই শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এ মারণ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি মানুষ। আক্রান্তদের মধ্যে প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। করোনার তাণ্ডবে বিশ্বজুড়ে এই যখন অবস্থা তখন হতাশার খবর দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

আপনার মতামত লিখুন :

ডেটায় দেশ

আন্তর্জাতিক

কোভিড-১৯

করোনা নিয়ন্ত্রণে লাগতে পারে ৫ বছর: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা


নিউজরুম ডেস্ক
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০ ইং ০১:০৯
NewsRoom


বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) শীর্ষ কর্মকর্তা প্রধান বিজ্ঞানী সৌমিয়া সোমিনাথান।

সৌমিয়া সোমিনাথান এক বিবৃতিতে বলেন, আমি চার থেকে পাঁচ বছরের একটি সময়সীমার কথা বলতে চাই। এই সময়ের মধ্যে আমরা এটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ভ্যাকসিন। তবে এর কার্যকারিতা এবং সুরক্ষা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। একই সঙ্গে ভ্যাকসিন উৎপাদন ও সুষম বন্টন নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

এদিকে, করোনার তাণ্ডবে বিশ্বজুড়ে এই যখন অবস্থা তখন হতাশার কথা বলেছেন সংস্থাটির হেলথ ইমারজেন্সি প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক ডা. মাইক রায়ান বলেন, কবে নাগাদ এই রোগ থেকে মুক্তি মিলবে তা কেউ অনুমান করতে পারছে না।

মাইক রায়ান বলেছেন, আমার মনে হয়, আমাদের এক্ষেত্রে বাস্তবতা উপলব্ধি করাটা গুরুত্বপূর্ণ। এই মহামারির শেষ কোথায়, এটা কেউ বলতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। কোভিড-১৯ হয়ত বিশ্ব থেকে কখনও নির্মূল হবে না।

এক ব্রিফিংয়ে রায়ান বলেন, এক্ষেত্রে কোনো দিনক্ষণ নেই, কেউ আশা দিতে পারবে না। এটা আমাদের জন্য দীর্ঘ সমস্যা হিসেবে রয়ে যাবে, হয়ত কখনও নেই হয়ে যাবে না।

পাঁচ মাস আগে চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ছোঁয়াচে এ ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে প্রায় গোটা পৃথিবী লকডাউনে যাওয়ায় বিশ্বের অর্থনীতি এখন বিপর্যস্ত। দিশেহারা মানুষ পথ খুঁজছে এ থেকে পরিত্রাণের।

এই পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিন আবিষ্কারে ঘুম হারাম করে গবেষণা চালাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। নানা দেশে প্রায় ১০০টি টিকা ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। যদিও এসবের বেশিরভাগই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটির (৮টি) ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অর্থাৎ মানবদেহে প্রয়োগ করা হয়েছে ইতোমধ্যে। তবে তাতেও ততটা আশাবাদী নন ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞ রায়ান।

তিনি বলেন, হামেরও তো টিকা আবিষ্কার হয়েছে, দেওয়াও হচ্ছে, তাতে তো হাম নির্মূল হয়নি। এইডসেরও এখনও কার্যকর টিকা আবিষ্কার হয়নি বলে তা রয়েই গেছে বিশ্বে। তেমন হলে নতুন করোনাভাইরাসকে সঙ্গী করেই বাঁচার পথ খুঁজতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বিভিন্ন দেশে লকডাউন শিথিলের বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, লকডাউন খুলে দিলে কি হয় তা দেখার জন্য আমাদের এটা করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, মানুষের শরীরে নতুন একটি ভাইরাস প্রবেশ করেছে। তাই এ থেকে আমরা কখন বেরিয়ে আসতে পারব তা এখনই অনুমান করা কঠিন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলছে, এখনই নভেল করোনাভাইরাস মহামারির সমাপ্তি হচ্ছে না। বছরের পর বছর এতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাবে মানুষ। মানবজাতির জন্য দীর্ঘস্থায়ী সংকট হিসেবে কমিউনিটিতে রয়ে যাবে এই ভাইরাস। তাই বিশ্ব নেতাদের এর ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের একটি বিন্দুতে পৌঁছাতে হবে, যাতে এটা আর মহামারি না থাকে।

বৈশ্বিক মহামারি এ ভাইরাসে এখন স্থবির পুরো পৃথিবী। দুই শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এ মারণ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি মানুষ। আক্রান্তদের মধ্যে প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। করোনার তাণ্ডবে বিশ্বজুড়ে এই যখন অবস্থা তখন হতাশার খবর দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

আপনার মতামত লিখুন :


কোভিড-১৯

করোনা নিয়ন্ত্রণে লাগতে পারে ৫ বছর: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

নিউজরুম ডেস্ক শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০ ইং ০১:০৯ NewsRoom


বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) শীর্ষ কর্মকর্তা প্রধান বিজ্ঞানী সৌমিয়া সোমিনাথান।

সৌমিয়া সোমিনাথান এক বিবৃতিতে বলেন, আমি চার থেকে পাঁচ বছরের একটি সময়সীমার কথা বলতে চাই। এই সময়ের মধ্যে আমরা এটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ভ্যাকসিন। তবে এর কার্যকারিতা এবং সুরক্ষা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। একই সঙ্গে ভ্যাকসিন উৎপাদন ও সুষম বন্টন নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

এদিকে, করোনার তাণ্ডবে বিশ্বজুড়ে এই যখন অবস্থা তখন হতাশার কথা বলেছেন সংস্থাটির হেলথ ইমারজেন্সি প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক ডা. মাইক রায়ান বলেন, কবে নাগাদ এই রোগ থেকে মুক্তি মিলবে তা কেউ অনুমান করতে পারছে না।

মাইক রায়ান বলেছেন, আমার মনে হয়, আমাদের এক্ষেত্রে বাস্তবতা উপলব্ধি করাটা গুরুত্বপূর্ণ। এই মহামারির শেষ কোথায়, এটা কেউ বলতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। কোভিড-১৯ হয়ত বিশ্ব থেকে কখনও নির্মূল হবে না।

এক ব্রিফিংয়ে রায়ান বলেন, এক্ষেত্রে কোনো দিনক্ষণ নেই, কেউ আশা দিতে পারবে না। এটা আমাদের জন্য দীর্ঘ সমস্যা হিসেবে রয়ে যাবে, হয়ত কখনও নেই হয়ে যাবে না।

পাঁচ মাস আগে চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ছোঁয়াচে এ ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে প্রায় গোটা পৃথিবী লকডাউনে যাওয়ায় বিশ্বের অর্থনীতি এখন বিপর্যস্ত। দিশেহারা মানুষ পথ খুঁজছে এ থেকে পরিত্রাণের।

এই পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিন আবিষ্কারে ঘুম হারাম করে গবেষণা চালাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। নানা দেশে প্রায় ১০০টি টিকা ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। যদিও এসবের বেশিরভাগই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটির (৮টি) ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অর্থাৎ মানবদেহে প্রয়োগ করা হয়েছে ইতোমধ্যে। তবে তাতেও ততটা আশাবাদী নন ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞ রায়ান।

তিনি বলেন, হামেরও তো টিকা আবিষ্কার হয়েছে, দেওয়াও হচ্ছে, তাতে তো হাম নির্মূল হয়নি। এইডসেরও এখনও কার্যকর টিকা আবিষ্কার হয়নি বলে তা রয়েই গেছে বিশ্বে। তেমন হলে নতুন করোনাভাইরাসকে সঙ্গী করেই বাঁচার পথ খুঁজতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বিভিন্ন দেশে লকডাউন শিথিলের বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, লকডাউন খুলে দিলে কি হয় তা দেখার জন্য আমাদের এটা করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, মানুষের শরীরে নতুন একটি ভাইরাস প্রবেশ করেছে। তাই এ থেকে আমরা কখন বেরিয়ে আসতে পারব তা এখনই অনুমান করা কঠিন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলছে, এখনই নভেল করোনাভাইরাস মহামারির সমাপ্তি হচ্ছে না। বছরের পর বছর এতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাবে মানুষ। মানবজাতির জন্য দীর্ঘস্থায়ী সংকট হিসেবে কমিউনিটিতে রয়ে যাবে এই ভাইরাস। তাই বিশ্ব নেতাদের এর ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের একটি বিন্দুতে পৌঁছাতে হবে, যাতে এটা আর মহামারি না থাকে।

বৈশ্বিক মহামারি এ ভাইরাসে এখন স্থবির পুরো পৃথিবী। দুই শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এ মারণ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি মানুষ। আক্রান্তদের মধ্যে প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। করোনার তাণ্ডবে বিশ্বজুড়ে এই যখন অবস্থা তখন হতাশার খবর দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।


2020 All Rights Reserved | www.newsroombd.com.bd
+8801554927951 info@newsroom.com.bd