শিল্প ও সাহিত্য গল্প
অজ্ঞাতনামা সম্পর্ক
জীবনে অনেক মানুষের সাথে মিশেছি। অনেক বন্ধু আছে। আছে বান্ধবীও। তবে কোন মেয়ে বন্ধুর সাথে তেমন গভীর সক্ষতা নেই। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে এমন বন্ধু/বান্ধবী থাকাটা স্বাভাবিক। আর ফেসবুক বা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বন্ধুত্বের সম্পর্কটা অনেকটাই এখনও বিদ্যমান।
তবে জীবনে সবাইকে সব সময় সর্বক্ষেত্রে মনে রাখাটা সম্ভব না আর এখন যেমন সময় চলছে কেউ কাউকে প্রয়োজন ছাড়া মনে রাখে না। আমিও এর বিপরীত প্রান্তের মানুষ নই।তবে কিছু কিছু মানুষ আছে যাদের সাথে চলাটা ভোলা যায় না।
আমি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স করেছি। সেখানে অনেক বন্ধু এবং বিশেষ করে সুন্দরী বান্ধবীদের আনাগোনা। কিন্তু আমার এই ৪ বছরের জীবনে ৪ জন বান্ধবী যাদের সাথে খুব গভীর বন্ধুত্বের ভালোবাসা আছে এমনটা হয়নি। জানি না কেন। তবে হ্যাঁ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বছর দুয়েক পর ফেসবুকের মাধ্যমে একটা জুনিয়র মেয়ের সাথে কথা বার্তা শুরু হয়। প্রথম অবস্থায় বেশির ভাগই লেখাপড়া নিয়েই কথা হত। আস্তে আস্তে কথার পরিধি বাড়ে। তারপর খুব ঘন ঘন কথা হত। তবে সেটা ফেসবুকেই। একটা সময় শুধু কথা না, দুজনের ভালোলাগা খারাপ লাগা নিয়েও বেশ হস্তক্ষেপ শুরু হয়। এরই মাঝে কোন ভাবে বন্ধুরা জানতে পারে অমুক মেয়েটার সাথে আমার কথা হয়। সবার মত আমিও তাদের জোর করে প্রেম করানো প্রেমেতে প্রেমিক তবে সেটা কাল্পনিক মানে বন্ধুদের কল্পনা। এরপর আমাকে দেখলে তার নাম আর তাকে দেখলে আমার নাম ধরে ডাকা দিয়ে শুরু হয়ে বিয়ে পর্যন্ত করানো বন্ধুদের হয়ে গেছে। কিন্তু তখনও তেমন কিছুই হয় নি। আস্তে আস্তে এই বিষয় গুলোর প্রভাব আমার ও তার উভয়ের মাঝেই পরে। আমারাও আরেকটু গভীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে এগোতে থাকি। কিন্তু একটা সময় মেয়েটা কেন জানি আমার ওপর বেশি দূর্বল হয়ে পরে। কেন জানি সে আমার বেশি বেশি খোঁজ নিতে শুরু করে।আমার কেয়ার নিতে শুরু করে। বিষয়টা আমি তেমন ভাবে আমলে নিতাম না। মাঝে মাঝে বিরক্ত হতাম। কেন জানি ভালো লাগতো না। অনেক সময় খারাপ ব্যবহার ও করতাম। পরে নিজের কাছে খুব খারাপ লাগতো। তখন আবার ক্ষমা চাইতাম। আর আমার কেন জানি মনে হত আমি ক্ষমা চাইলে সে ক্ষমা করবে। আর হতও তাই।
এরপর মেয়েটা আমাকে দেখার জন্য ক্যান্টিনে এসে খুঁজত, আমাকে দেখলে সেখানে ভান করে দাড়াতো যেন আমি তাকে দেখি, আমি তার সাথে কথা বলি। আবার অনেক সময় রাগ নিয়ে থাকত কেন আমি তাকে দেখছি না। কিন্তু ও যা চাইত বেশির ভাগ সময় তা হত না।মানে আমি তেমন ভাবে ওকে ওর মত কেয়ার করতাম না। এতে তার রাগ হত। পরে সে তা প্রকাশ করত। এরপর দিন যায় আমাদের কথা বাড়ে, সম্পর্কের গভীরতাও বাড়ে। একটা সময় আমিও খেয়াল করলাম ওর সাথে কথা না হলে মনে হত কেন জানি আজ কেন ও কথা বলল না। ভালো লাগতো না।
আস্তে আস্তে মেয়েটা নানা ভাবে আমাকে বোঝাতে চাই বা বোঝায় সে আমাকে পছন্দ করে।কিন্তু আমিও বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকতাম। কারন আমি ওর সাথে কোন সম্পর্কে যেতে চাই নি কখনোই। কারণ আমি তাকে ব্যক্তি হিসেবে পছন্দ করি, সম্মান করি। কিন্তু ভালোবাসা বা ভালোলাগার ফিলিংসটা আমার মধ্যে আসে নি। সে চাইত আমি তাকে নিয়ে ঘুরতে যাই। আমি তার সাথে গল্প করি। কিন্তু আমি সেগুলোর কিছুই করতাম না। তার মানে কোন দিন তার সাথে যে যায় নি তা নয়। আমি প্রথম যেদিন তাকে বলি আজ রিক্সায় ঘুরবো মনে হচ্ছিল সেদিন তার ঈদ। সেদিনও সে আমাকে দিয়ে ভালোবাসি কথাটা বলাতে চেয়েছিল কিন্তু পারে নি।তবে পরে বার বার ম্যাসেজ কিরছিল তখন কিছু কথা লিখেছিলাম।সেটাও তার খুব পছন্দ। এত পছন্দ যে সে সেটা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিল।
ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় আমাদের চলা, বলা, আবেগ, রাগ, অনুরাগ, ঝগড়া-বিবাদ, গিফট নেয়া-দেয়া, অনুরোধ, অধিকার, মজা করা ইত্যাদি।
অনেক সময় সে জানতে চাইত আমাদের এই সম্পর্কের নাম কি। আমি চিরকাল বলেছি জানি না। সে অনেক সময় হঠাৎ ম্যাসেজ দিত "আপনাকে দেখতে ইচ্ছে করছে","মিস ইউ"। কিন্তু আমাকে দিয়ে সে এটা কখনোই বলাতে পারে নি। আমার মনে এমন কিছু মনে হলেও বলিনি। ও জিজ্ঞেস করলেও বলিনি। এই জন্যও তার রাগ।
আমার কন্ঠে গান না কি তার খুব ভালো লাগে। হঠাৎ হঠাৎ সে ফোন করে গান শুনতে চায়।কিন্তু আমি তার এই চাওয়াটাও সব সময় পূর্ণ করিনি। আসলে সম্ভব ও হয়নি। আমি ওকে কথায় কথায় অনেক দিন জিজ্ঞেস করেছিলাম তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ? কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেও চতুরতার সাথে এড়িয়ে গেছে।
আমরা একবার পিকনিকে গিয়েছিলাম সেন্টমার্টিন। সেখানে গিয়ে আমারা রাতে সমুদ্রের গর্জন আর পূর্ণিমার আলোয় পাশাপাশি হেটেছি, গল্প করেছি এই সময়টা তার কাছে খুব ভালো লেগেছে। আসার সময় কক্সবাজারে রাতের খাবারের বিরতি পাই। তখন ১৫ বা ২০ মিনিটের জন্য সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার সময় হয়। ওখান থেকে আমি ওকে একটা ব্রেসলেট কিনে দেই। কোন কারণে ওটা ছিড়ে যায়। সেদিন কাঁদো কাঁদো কন্ঠে কল দিয়ে আমাকে বলে ওটা ছিড়ে গেছে। তখন আমি বলেছিলাম ওটা ছিড়ে যাক সম্পর্ক না ছিড়লেই হল।তখন তার কন্ঠে সস্তির শব্দ শুনতে পায়। অন্য আরেকদিন বলে যে আমার দেয়া প্রত্যেকটা জিনিস সে যত্ন করে রাখতে চায়। কেন জানি মেয়েটা আমাকে খুব বিশ্বাস করে। আবার অনেক সময় অনেক অনুরোধ করতে গিয়ে বা কিছু বলতে গিয়ে সে আমার ওপর তো তার কোন অধিকার নেই এমনটা বলত। অথবা সে কি অধিকার নিয়ে আমাকে অনুরোধ টা করবে সেটা বলত।
মাঝ মাঝে ওর সাথে খুব ঝগড়া ও রাগারাগি হত। বিশেষ করে আমি কোন মেয়ের সাথে কথা বললে সে কেন সেটা সহ্য করতে পারত না তা আমি জানি না। আবার দেখা গেছে দু'তিন দিন কথা না হলে ফোন করে বলে যে আপনি কি এই পৃথিবীতে আছেন।
ও যে কোন ছোট ছোট বিষয় যেগুলো বোঝে না সেগুলো আমাকে বোঝাতে হয়। বিশেষ করে এস্যাইনমেন্ট, পরিক্ষার পড়া, কোন টপিক বুঝতে না পারা সহ প্রেজেন্টেশনে কোন শাড়ি পরবে সেটা ও আমাকে জিজ্ঞেস করত।
এরই মাঝে আমার অনার্স শেষ হয়ে যায়। আমি তখন মাস্টার্স এ ভর্তি নিয়ে ব্যস্ত। এর মাঝে আমি ঢাকার বাইরে আমার জেলায় পাবলিক বিশ্ব্যবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যায়। আমি ওকে তেমন কিছু বলিনি। এতেও তার রাগ। এই ব্যাপার টা নিয়ে তার অনেক আবেগ।এমন ভাবে সে বলে যে মনে হয় কি যেন সে হারিয়ে ফেলল।
গত কয়েকদিন আগে তার সাথে কথা হয়।সে জিজ্ঞেস করে কবে থেকে ক্লাস শুরু? কয়টা মেয়ে আছে? কেন জানি রাগ রাগ কথা কিন্তু মনে হচ্ছিল ব্যাথা ভরা কন্ঠ।
এমন অনেক কথা আছে যা আসলে মনে করে বলা বা লেখার মত সময় সুযোগ হয় নি। এই লেখাটাও তার ইচ্ছাতেই লেখা। সে তার জন্মদিনের উপহার হিসেবে এই স্মৃতি গুলো অক্ষরিত করে রাখা একটা লেখা চাই। কিন্তু কেন জানি লিখতে চেয়েছিলাম না। তবুও লিখতে হলো।
গতকাল রাতে সে আবার বলে লেখাটার কথা। তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করি আমাকে কাছে তোমার আর কি চাওয়া। তারপর দুটো মুদ্ধ করা কথা বলে। ও বলে আপনাকে আমি ক্লাসে খুজেছি, ক্যান্টিনে খুজেছি, ডিপার্টমেন্টে খুজেছি একবার দেখার জন্য। আপনার সাথে সারা রাত হেটে ঘুরে বেড়াতে চেয়েছি। কিন্তু আর কি চাই সেটা জানি না। তবে হ্যাঁ, কোন নোংরা চিন্তা আপনাকে নিয়ে আমি করিনি আর তেমন চিন্তা আপনাকে নিয়ে আমার আসেও না।
মেয়েটাকে আমি ভালোবাসি কি না আমি আসলেই জানিনা আর তার মতে সেও জানে না।তার আর আমার এই সম্পর্কের আসলেই আমি কোন নাম খুঁজে পাইনি। তবে তার জন্য আমার চাওয়া হল সর্বদা সে ভালোবাসাই ভালো থাকুক...
লেখক : মোঃ তৈয়ব আলী
শিল্প ও সাহিত্য গল্প
অজ্ঞাতনামা সম্পর্ক
জীবনে অনেক মানুষের সাথে মিশেছি। অনেক বন্ধু আছে। আছে বান্ধবীও। তবে কোন মেয়ে বন্ধুর সাথে তেমন গভীর সক্ষতা নেই। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে এমন বন্ধু/বান্ধবী থাকাটা স্বাভাবিক। আর ফেসবুক বা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বন্ধুত্বের সম্পর্কটা অনেকটাই এখনও বিদ্যমান।
তবে জীবনে সবাইকে সব সময় সর্বক্ষেত্রে মনে রাখাটা সম্ভব না আর এখন যেমন সময় চলছে কেউ কাউকে প্রয়োজন ছাড়া মনে রাখে না। আমিও এর বিপরীত প্রান্তের মানুষ নই।তবে কিছু কিছু মানুষ আছে যাদের সাথে চলাটা ভোলা যায় না।
আমি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স করেছি। সেখানে অনেক বন্ধু এবং বিশেষ করে সুন্দরী বান্ধবীদের আনাগোনা। কিন্তু আমার এই ৪ বছরের জীবনে ৪ জন বান্ধবী যাদের সাথে খুব গভীর বন্ধুত্বের ভালোবাসা আছে এমনটা হয়নি। জানি না কেন। তবে হ্যাঁ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বছর দুয়েক পর ফেসবুকের মাধ্যমে একটা জুনিয়র মেয়ের সাথে কথা বার্তা শুরু হয়। প্রথম অবস্থায় বেশির ভাগই লেখাপড়া নিয়েই কথা হত। আস্তে আস্তে কথার পরিধি বাড়ে। তারপর খুব ঘন ঘন কথা হত। তবে সেটা ফেসবুকেই। একটা সময় শুধু কথা না, দুজনের ভালোলাগা খারাপ লাগা নিয়েও বেশ হস্তক্ষেপ শুরু হয়। এরই মাঝে কোন ভাবে বন্ধুরা জানতে পারে অমুক মেয়েটার সাথে আমার কথা হয়। সবার মত আমিও তাদের জোর করে প্রেম করানো প্রেমেতে প্রেমিক তবে সেটা কাল্পনিক মানে বন্ধুদের কল্পনা। এরপর আমাকে দেখলে তার নাম আর তাকে দেখলে আমার নাম ধরে ডাকা দিয়ে শুরু হয়ে বিয়ে পর্যন্ত করানো বন্ধুদের হয়ে গেছে। কিন্তু তখনও তেমন কিছুই হয় নি। আস্তে আস্তে এই বিষয় গুলোর প্রভাব আমার ও তার উভয়ের মাঝেই পরে। আমারাও আরেকটু গভীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে এগোতে থাকি। কিন্তু একটা সময় মেয়েটা কেন জানি আমার ওপর বেশি দূর্বল হয়ে পরে। কেন জানি সে আমার বেশি বেশি খোঁজ নিতে শুরু করে।আমার কেয়ার নিতে শুরু করে। বিষয়টা আমি তেমন ভাবে আমলে নিতাম না। মাঝে মাঝে বিরক্ত হতাম। কেন জানি ভালো লাগতো না। অনেক সময় খারাপ ব্যবহার ও করতাম। পরে নিজের কাছে খুব খারাপ লাগতো। তখন আবার ক্ষমা চাইতাম। আর আমার কেন জানি মনে হত আমি ক্ষমা চাইলে সে ক্ষমা করবে। আর হতও তাই।
এরপর মেয়েটা আমাকে দেখার জন্য ক্যান্টিনে এসে খুঁজত, আমাকে দেখলে সেখানে ভান করে দাড়াতো যেন আমি তাকে দেখি, আমি তার সাথে কথা বলি। আবার অনেক সময় রাগ নিয়ে থাকত কেন আমি তাকে দেখছি না। কিন্তু ও যা চাইত বেশির ভাগ সময় তা হত না।মানে আমি তেমন ভাবে ওকে ওর মত কেয়ার করতাম না। এতে তার রাগ হত। পরে সে তা প্রকাশ করত। এরপর দিন যায় আমাদের কথা বাড়ে, সম্পর্কের গভীরতাও বাড়ে। একটা সময় আমিও খেয়াল করলাম ওর সাথে কথা না হলে মনে হত কেন জানি আজ কেন ও কথা বলল না। ভালো লাগতো না।
আস্তে আস্তে মেয়েটা নানা ভাবে আমাকে বোঝাতে চাই বা বোঝায় সে আমাকে পছন্দ করে।কিন্তু আমিও বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকতাম। কারন আমি ওর সাথে কোন সম্পর্কে যেতে চাই নি কখনোই। কারণ আমি তাকে ব্যক্তি হিসেবে পছন্দ করি, সম্মান করি। কিন্তু ভালোবাসা বা ভালোলাগার ফিলিংসটা আমার মধ্যে আসে নি। সে চাইত আমি তাকে নিয়ে ঘুরতে যাই। আমি তার সাথে গল্প করি। কিন্তু আমি সেগুলোর কিছুই করতাম না। তার মানে কোন দিন তার সাথে যে যায় নি তা নয়। আমি প্রথম যেদিন তাকে বলি আজ রিক্সায় ঘুরবো মনে হচ্ছিল সেদিন তার ঈদ। সেদিনও সে আমাকে দিয়ে ভালোবাসি কথাটা বলাতে চেয়েছিল কিন্তু পারে নি।তবে পরে বার বার ম্যাসেজ কিরছিল তখন কিছু কথা লিখেছিলাম।সেটাও তার খুব পছন্দ। এত পছন্দ যে সে সেটা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিল।
ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় আমাদের চলা, বলা, আবেগ, রাগ, অনুরাগ, ঝগড়া-বিবাদ, গিফট নেয়া-দেয়া, অনুরোধ, অধিকার, মজা করা ইত্যাদি।
অনেক সময় সে জানতে চাইত আমাদের এই সম্পর্কের নাম কি। আমি চিরকাল বলেছি জানি না। সে অনেক সময় হঠাৎ ম্যাসেজ দিত "আপনাকে দেখতে ইচ্ছে করছে","মিস ইউ"। কিন্তু আমাকে দিয়ে সে এটা কখনোই বলাতে পারে নি। আমার মনে এমন কিছু মনে হলেও বলিনি। ও জিজ্ঞেস করলেও বলিনি। এই জন্যও তার রাগ।
আমার কন্ঠে গান না কি তার খুব ভালো লাগে। হঠাৎ হঠাৎ সে ফোন করে গান শুনতে চায়।কিন্তু আমি তার এই চাওয়াটাও সব সময় পূর্ণ করিনি। আসলে সম্ভব ও হয়নি। আমি ওকে কথায় কথায় অনেক দিন জিজ্ঞেস করেছিলাম তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ? কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেও চতুরতার সাথে এড়িয়ে গেছে।
আমরা একবার পিকনিকে গিয়েছিলাম সেন্টমার্টিন। সেখানে গিয়ে আমারা রাতে সমুদ্রের গর্জন আর পূর্ণিমার আলোয় পাশাপাশি হেটেছি, গল্প করেছি এই সময়টা তার কাছে খুব ভালো লেগেছে। আসার সময় কক্সবাজারে রাতের খাবারের বিরতি পাই। তখন ১৫ বা ২০ মিনিটের জন্য সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার সময় হয়। ওখান থেকে আমি ওকে একটা ব্রেসলেট কিনে দেই। কোন কারণে ওটা ছিড়ে যায়। সেদিন কাঁদো কাঁদো কন্ঠে কল দিয়ে আমাকে বলে ওটা ছিড়ে গেছে। তখন আমি বলেছিলাম ওটা ছিড়ে যাক সম্পর্ক না ছিড়লেই হল।তখন তার কন্ঠে সস্তির শব্দ শুনতে পায়। অন্য আরেকদিন বলে যে আমার দেয়া প্রত্যেকটা জিনিস সে যত্ন করে রাখতে চায়। কেন জানি মেয়েটা আমাকে খুব বিশ্বাস করে। আবার অনেক সময় অনেক অনুরোধ করতে গিয়ে বা কিছু বলতে গিয়ে সে আমার ওপর তো তার কোন অধিকার নেই এমনটা বলত। অথবা সে কি অধিকার নিয়ে আমাকে অনুরোধ টা করবে সেটা বলত।
মাঝ মাঝে ওর সাথে খুব ঝগড়া ও রাগারাগি হত। বিশেষ করে আমি কোন মেয়ের সাথে কথা বললে সে কেন সেটা সহ্য করতে পারত না তা আমি জানি না। আবার দেখা গেছে দু'তিন দিন কথা না হলে ফোন করে বলে যে আপনি কি এই পৃথিবীতে আছেন।
ও যে কোন ছোট ছোট বিষয় যেগুলো বোঝে না সেগুলো আমাকে বোঝাতে হয়। বিশেষ করে এস্যাইনমেন্ট, পরিক্ষার পড়া, কোন টপিক বুঝতে না পারা সহ প্রেজেন্টেশনে কোন শাড়ি পরবে সেটা ও আমাকে জিজ্ঞেস করত।
এরই মাঝে আমার অনার্স শেষ হয়ে যায়। আমি তখন মাস্টার্স এ ভর্তি নিয়ে ব্যস্ত। এর মাঝে আমি ঢাকার বাইরে আমার জেলায় পাবলিক বিশ্ব্যবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যায়। আমি ওকে তেমন কিছু বলিনি। এতেও তার রাগ। এই ব্যাপার টা নিয়ে তার অনেক আবেগ।এমন ভাবে সে বলে যে মনে হয় কি যেন সে হারিয়ে ফেলল।
গত কয়েকদিন আগে তার সাথে কথা হয়।সে জিজ্ঞেস করে কবে থেকে ক্লাস শুরু? কয়টা মেয়ে আছে? কেন জানি রাগ রাগ কথা কিন্তু মনে হচ্ছিল ব্যাথা ভরা কন্ঠ।
এমন অনেক কথা আছে যা আসলে মনে করে বলা বা লেখার মত সময় সুযোগ হয় নি। এই লেখাটাও তার ইচ্ছাতেই লেখা। সে তার জন্মদিনের উপহার হিসেবে এই স্মৃতি গুলো অক্ষরিত করে রাখা একটা লেখা চাই। কিন্তু কেন জানি লিখতে চেয়েছিলাম না। তবুও লিখতে হলো।
গতকাল রাতে সে আবার বলে লেখাটার কথা। তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করি আমাকে কাছে তোমার আর কি চাওয়া। তারপর দুটো মুদ্ধ করা কথা বলে। ও বলে আপনাকে আমি ক্লাসে খুজেছি, ক্যান্টিনে খুজেছি, ডিপার্টমেন্টে খুজেছি একবার দেখার জন্য। আপনার সাথে সারা রাত হেটে ঘুরে বেড়াতে চেয়েছি। কিন্তু আর কি চাই সেটা জানি না। তবে হ্যাঁ, কোন নোংরা চিন্তা আপনাকে নিয়ে আমি করিনি আর তেমন চিন্তা আপনাকে নিয়ে আমার আসেও না।
মেয়েটাকে আমি ভালোবাসি কি না আমি আসলেই জানিনা আর তার মতে সেও জানে না।তার আর আমার এই সম্পর্কের আসলেই আমি কোন নাম খুঁজে পাইনি। তবে তার জন্য আমার চাওয়া হল সর্বদা সে ভালোবাসাই ভালো থাকুক...
লেখক : মোঃ তৈয়ব আলী
আপনার মতামত লিখুন :
আরও পড়ুন
জীবনে অনেক মানুষের সাথে মিশেছি। অনেক বন্ধু আছে। আছে বান্ধবীও। তবে কোন মেয়ে বন্ধুর সাথে তেমন গভীর সক্ষতা নেই। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে এমন বন্ধু/বান্ধবী থাকাটা স্বাভাবিক। আর ফেসবুক বা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বন্ধুত্বের সম্পর্কটা অনেকটাই এখনও বিদ্যমান।
তবে জীবনে সবাইকে সব সময় সর্বক্ষেত্রে মনে রাখাটা সম্ভব না আর এখন যেমন সময় চলছে কেউ কাউকে প্রয়োজন ছাড়া মনে রাখে না। আমিও এর বিপরীত প্রান্তের মানুষ নই।তবে কিছু কিছু মানুষ আছে যাদের সাথে চলাটা ভোলা যায় না।
আমি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স করেছি। সেখানে অনেক বন্ধু এবং বিশেষ করে সুন্দরী বান্ধবীদের আনাগোনা। কিন্তু আমার এই ৪ বছরের জীবনে ৪ জন বান্ধবী যাদের সাথে খুব গভীর বন্ধুত্বের ভালোবাসা আছে এমনটা হয়নি। জানি না কেন। তবে হ্যাঁ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বছর দুয়েক পর ফেসবুকের মাধ্যমে একটা জুনিয়র মেয়ের সাথে কথা বার্তা শুরু হয়। প্রথম অবস্থায় বেশির ভাগই লেখাপড়া নিয়েই কথা হত। আস্তে আস্তে কথার পরিধি বাড়ে। তারপর খুব ঘন ঘন কথা হত। তবে সেটা ফেসবুকেই। একটা সময় শুধু কথা না, দুজনের ভালোলাগা খারাপ লাগা নিয়েও বেশ হস্তক্ষেপ শুরু হয়। এরই মাঝে কোন ভাবে বন্ধুরা জানতে পারে অমুক মেয়েটার সাথে আমার কথা হয়। সবার মত আমিও তাদের জোর করে প্রেম করানো প্রেমেতে প্রেমিক তবে সেটা কাল্পনিক মানে বন্ধুদের কল্পনা। এরপর আমাকে দেখলে তার নাম আর তাকে দেখলে আমার নাম ধরে ডাকা দিয়ে শুরু হয়ে বিয়ে পর্যন্ত করানো বন্ধুদের হয়ে গেছে। কিন্তু তখনও তেমন কিছুই হয় নি। আস্তে আস্তে এই বিষয় গুলোর প্রভাব আমার ও তার উভয়ের মাঝেই পরে। আমারাও আরেকটু গভীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে এগোতে থাকি। কিন্তু একটা সময় মেয়েটা কেন জানি আমার ওপর বেশি দূর্বল হয়ে পরে। কেন জানি সে আমার বেশি বেশি খোঁজ নিতে শুরু করে।আমার কেয়ার নিতে শুরু করে। বিষয়টা আমি তেমন ভাবে আমলে নিতাম না। মাঝে মাঝে বিরক্ত হতাম। কেন জানি ভালো লাগতো না। অনেক সময় খারাপ ব্যবহার ও করতাম। পরে নিজের কাছে খুব খারাপ লাগতো। তখন আবার ক্ষমা চাইতাম। আর আমার কেন জানি মনে হত আমি ক্ষমা চাইলে সে ক্ষমা করবে। আর হতও তাই।
এরপর মেয়েটা আমাকে দেখার জন্য ক্যান্টিনে এসে খুঁজত, আমাকে দেখলে সেখানে ভান করে দাড়াতো যেন আমি তাকে দেখি, আমি তার সাথে কথা বলি। আবার অনেক সময় রাগ নিয়ে থাকত কেন আমি তাকে দেখছি না। কিন্তু ও যা চাইত বেশির ভাগ সময় তা হত না।মানে আমি তেমন ভাবে ওকে ওর মত কেয়ার করতাম না। এতে তার রাগ হত। পরে সে তা প্রকাশ করত। এরপর দিন যায় আমাদের কথা বাড়ে, সম্পর্কের গভীরতাও বাড়ে। একটা সময় আমিও খেয়াল করলাম ওর সাথে কথা না হলে মনে হত কেন জানি আজ কেন ও কথা বলল না। ভালো লাগতো না।
আস্তে আস্তে মেয়েটা নানা ভাবে আমাকে বোঝাতে চাই বা বোঝায় সে আমাকে পছন্দ করে।কিন্তু আমিও বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকতাম। কারন আমি ওর সাথে কোন সম্পর্কে যেতে চাই নি কখনোই। কারণ আমি তাকে ব্যক্তি হিসেবে পছন্দ করি, সম্মান করি। কিন্তু ভালোবাসা বা ভালোলাগার ফিলিংসটা আমার মধ্যে আসে নি। সে চাইত আমি তাকে নিয়ে ঘুরতে যাই। আমি তার সাথে গল্প করি। কিন্তু আমি সেগুলোর কিছুই করতাম না। তার মানে কোন দিন তার সাথে যে যায় নি তা নয়। আমি প্রথম যেদিন তাকে বলি আজ রিক্সায় ঘুরবো মনে হচ্ছিল সেদিন তার ঈদ। সেদিনও সে আমাকে দিয়ে ভালোবাসি কথাটা বলাতে চেয়েছিল কিন্তু পারে নি।তবে পরে বার বার ম্যাসেজ কিরছিল তখন কিছু কথা লিখেছিলাম।সেটাও তার খুব পছন্দ। এত পছন্দ যে সে সেটা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিল।
ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় আমাদের চলা, বলা, আবেগ, রাগ, অনুরাগ, ঝগড়া-বিবাদ, গিফট নেয়া-দেয়া, অনুরোধ, অধিকার, মজা করা ইত্যাদি।
অনেক সময় সে জানতে চাইত আমাদের এই সম্পর্কের নাম কি। আমি চিরকাল বলেছি জানি না। সে অনেক সময় হঠাৎ ম্যাসেজ দিত "আপনাকে দেখতে ইচ্ছে করছে","মিস ইউ"। কিন্তু আমাকে দিয়ে সে এটা কখনোই বলাতে পারে নি। আমার মনে এমন কিছু মনে হলেও বলিনি। ও জিজ্ঞেস করলেও বলিনি। এই জন্যও তার রাগ।
আমার কন্ঠে গান না কি তার খুব ভালো লাগে। হঠাৎ হঠাৎ সে ফোন করে গান শুনতে চায়।কিন্তু আমি তার এই চাওয়াটাও সব সময় পূর্ণ করিনি। আসলে সম্ভব ও হয়নি। আমি ওকে কথায় কথায় অনেক দিন জিজ্ঞেস করেছিলাম তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ? কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেও চতুরতার সাথে এড়িয়ে গেছে।
আমরা একবার পিকনিকে গিয়েছিলাম সেন্টমার্টিন। সেখানে গিয়ে আমারা রাতে সমুদ্রের গর্জন আর পূর্ণিমার আলোয় পাশাপাশি হেটেছি, গল্প করেছি এই সময়টা তার কাছে খুব ভালো লেগেছে। আসার সময় কক্সবাজারে রাতের খাবারের বিরতি পাই। তখন ১৫ বা ২০ মিনিটের জন্য সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার সময় হয়। ওখান থেকে আমি ওকে একটা ব্রেসলেট কিনে দেই। কোন কারণে ওটা ছিড়ে যায়। সেদিন কাঁদো কাঁদো কন্ঠে কল দিয়ে আমাকে বলে ওটা ছিড়ে গেছে। তখন আমি বলেছিলাম ওটা ছিড়ে যাক সম্পর্ক না ছিড়লেই হল।তখন তার কন্ঠে সস্তির শব্দ শুনতে পায়। অন্য আরেকদিন বলে যে আমার দেয়া প্রত্যেকটা জিনিস সে যত্ন করে রাখতে চায়। কেন জানি মেয়েটা আমাকে খুব বিশ্বাস করে। আবার অনেক সময় অনেক অনুরোধ করতে গিয়ে বা কিছু বলতে গিয়ে সে আমার ওপর তো তার কোন অধিকার নেই এমনটা বলত। অথবা সে কি অধিকার নিয়ে আমাকে অনুরোধ টা করবে সেটা বলত।
মাঝ মাঝে ওর সাথে খুব ঝগড়া ও রাগারাগি হত। বিশেষ করে আমি কোন মেয়ের সাথে কথা বললে সে কেন সেটা সহ্য করতে পারত না তা আমি জানি না। আবার দেখা গেছে দু'তিন দিন কথা না হলে ফোন করে বলে যে আপনি কি এই পৃথিবীতে আছেন।
ও যে কোন ছোট ছোট বিষয় যেগুলো বোঝে না সেগুলো আমাকে বোঝাতে হয়। বিশেষ করে এস্যাইনমেন্ট, পরিক্ষার পড়া, কোন টপিক বুঝতে না পারা সহ প্রেজেন্টেশনে কোন শাড়ি পরবে সেটা ও আমাকে জিজ্ঞেস করত।
এরই মাঝে আমার অনার্স শেষ হয়ে যায়। আমি তখন মাস্টার্স এ ভর্তি নিয়ে ব্যস্ত। এর মাঝে আমি ঢাকার বাইরে আমার জেলায় পাবলিক বিশ্ব্যবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যায়। আমি ওকে তেমন কিছু বলিনি। এতেও তার রাগ। এই ব্যাপার টা নিয়ে তার অনেক আবেগ।এমন ভাবে সে বলে যে মনে হয় কি যেন সে হারিয়ে ফেলল।
গত কয়েকদিন আগে তার সাথে কথা হয়।সে জিজ্ঞেস করে কবে থেকে ক্লাস শুরু? কয়টা মেয়ে আছে? কেন জানি রাগ রাগ কথা কিন্তু মনে হচ্ছিল ব্যাথা ভরা কন্ঠ।
এমন অনেক কথা আছে যা আসলে মনে করে বলা বা লেখার মত সময় সুযোগ হয় নি। এই লেখাটাও তার ইচ্ছাতেই লেখা। সে তার জন্মদিনের উপহার হিসেবে এই স্মৃতি গুলো অক্ষরিত করে রাখা একটা লেখা চাই। কিন্তু কেন জানি লিখতে চেয়েছিলাম না। তবুও লিখতে হলো।
গতকাল রাতে সে আবার বলে লেখাটার কথা। তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করি আমাকে কাছে তোমার আর কি চাওয়া। তারপর দুটো মুদ্ধ করা কথা বলে। ও বলে আপনাকে আমি ক্লাসে খুজেছি, ক্যান্টিনে খুজেছি, ডিপার্টমেন্টে খুজেছি একবার দেখার জন্য। আপনার সাথে সারা রাত হেটে ঘুরে বেড়াতে চেয়েছি। কিন্তু আর কি চাই সেটা জানি না। তবে হ্যাঁ, কোন নোংরা চিন্তা আপনাকে নিয়ে আমি করিনি আর তেমন চিন্তা আপনাকে নিয়ে আমার আসেও না।
মেয়েটাকে আমি ভালোবাসি কি না আমি আসলেই জানিনা আর তার মতে সেও জানে না।তার আর আমার এই সম্পর্কের আসলেই আমি কোন নাম খুঁজে পাইনি। তবে তার জন্য আমার চাওয়া হল সর্বদা সে ভালোবাসাই ভালো থাকুক...
লেখক : মোঃ তৈয়ব আলী
আপনার মতামত লিখুন :